আজ শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ ইং, ২০ চৈত্র ১৪২৬

তারাকান্দায় মাল্টা

Thursday, September 19, 2019

রসালো ফল মাল্টা এদেশে অপরিচিত নয়। তবে, এটি যে দেশী ফল নয় এ ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত। এ এলাকায় মাল্টার চাষ হতে পারে এমন ধারণাও আগে কেউ করেনি। নিজের জমিতে মাল্টা চাষ করে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নে মাইজপাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেব। এ অঞ্চলে মাল্টার চাষ কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মাল্টা চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় মোতালেব মিয়ার বাগানে উৎসুক মানুষের ভিড় দিন দিন বাড়ছে।

এ নিয়ে শনিবার সরেজমিনে বাগান দেখতে গেলে মোতালেব জানান, ২ বছর আগে স্থানীয় কৃষি সমপ্রসারণ অফিসের প্রকল্পের সহায়তায় ১ একর আয়তনের ১টি বাগানে প্রায় ৯৫টি মাল্টা গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে তার বাগানের এক-তৃতীয়াংশ গাছে মাল্টার ফলন ধরেছে। আশা করছেন আগামী অক্টোবর মাসের শেষে বাগানের উৎপাদিত মাল্টা বাজারজাত করার মাধ্যমে ভালো টাকা আয় করতে পাবরেন। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিভিন্ন সব্জি আবাদ করে ব্যয় হওয়া প্রায় টাকাই তুলতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন ফলের বাগান করাসহ বৃক্ষরোপণ করা পছন্দ করতেন। নিজের জমানো টাকা দিয়ে বিভিন্ন ফলের গাছ কিনে রোপণ করতেন তিনি। এই আকর্ষণ থেকে পরবর্তীতে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মাল্টা চাষের আগে তাঁর কলা ও পেয়ারা বাগান উপজেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক আয়োজিত ফলদবৃক্ষ মেলার অনুপ্রেরনা থেকে মাল্টা বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। বাগানে চারা রোপণের পর থেকে সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগসহ আমি নিজেই বাগানে সময় দিতাম। কখনও সময় দিতে না পারলে শ্রমিক নিয়ে সাধ্যমতো যতœ নিতে ভুল করতাম না। ফলে এক বছরের মধ্যেই অনেক গাছে ফুল চলে আসে। বর্তমানে প্রায় ৪০টি গাছে ফলন এসেছে। অধিকাংশ মাল্টা গাছে ক্ষতিকর পোকা থেকে দূরে রাখতে চাইনিজ ব্যাগিং পদ্ধতি দিয়ে ঢেকে রেখেছি। দিন যত যাচ্ছে নার্সারি মালিকেরা মাল্টা চাড়া (কলম) সংগ্রহের জন্য তার সঙ্গে দেখা করছেন। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায়ই আমার বাগানে এসে ফলন বিষয়ে দেখভাল করেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এল এম রেজুয়ান বলেন, মাল্টা চাষে মিশ্র বাগানের মাধ্যমে চাষ করার জন্য আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মাল্টা চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, তেমনি ব্যাপক চাহিদা থাকায় অত্র এলাকার কৃষকগন অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হবেন। বর্তমান অর্থ বছরে আরও ৫০টি মাল্টা বাগান করার প্রকল্প এসেছে। আগ্রহী কৃষকদের চারা বিতরণ থেকে শুরু করে বাগান করা পর্যন্ত সকল প্রকার সহায়তা করতে আমরা প্রস্তত রয়েছি। 
No comments তারাকান্দায় মাল্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাটাগরি
দিনপঞ্জিকা
April 2020
M T W T F S S
« Jan    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930