আজ সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০ ইং, ৭ মাঘ ১৪২৬

বই পাগল সুশিলের পপকন বিক্রিই পেশা

Monday, September 16, 2019

 

ভালুকা প্রতনিধি :পপকন বিক্রেতা সুশিল চন্দ্র মজুমদার একজন বই পাগল মানুষ।যার সুখ দুঃখ বেদনার একমাত্র সাথি হলেন বই।যিনি বেশি ভাগ সময় বই পড়ে।তিনি ময়মনসিংহ শহরে জয়নুল আবেদিন পার্কে পপকন বিক্রি করেন ।তিনি অবিভাহিত,তার বয়স ৬৫বর্তমান।তিনি থাকেন তার ভাই সুশান্ত মজুমদার এর বাসায় ।দিনের অর্ধ-ভাগ পপকন বিক্রি করে যে টাকা পান তার কিছু অংশ রেখেদেন বই কিনার জন্য।এভাবেই দৈনিক জিবন চালায় এই বই পাগল সুশিল চন্দ্র মজুমদার ।তিনি ভালুকা থানার উথুরা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।তার পিতা সুরেন্দ্র মজুমদার ,মাতা সুখদা মজুমদার ।বই এর প্রতি ভালবাসা এবং বই পড়া শুরু হয়‘ মা’ সুখদা মজুমদারের কাছ থেকে ।সুশিল ছোট সময় থেকে মায়ের পাশে বসে মায়ের বই পড়া শুনতেন।তখন থেকে তার বইয়ের প্রতি ভাললাগা শুরু।তার মা তাকে প্রথম যে বইটি পড়ার জন্য তাকে দেন সে বইটির নাম হলো “বিন্দুর ছেলে ”। বই পড়া হাতেখড়ি মায়ের দ্ওেয়া বিন্দুর ছেলে বইটি দিয়ে।অনেক আনন্দের সাথে সে বই্িট পড়েন ।এবাবে সে বইকে আসতে আসতে আপন করে নিতে থাকে। মায়ের হাত ধরে নানা ধরনের গল্প ,উপন্যাস,কবিতার বই পড়তে শুরু করেন সুশিল চন্দ্র মজুমদার।বাবা পেশাগত কৃষক থাকায় তাকে যেতে হতো মাঠে কাজ করার জন্য, গরু চড়াতে যেতে হতো তাকে ।তাই সে সাথে একটি বই নিয়ে যেত ।গরু মাঠে চড়াতে দিয়ে সে বই পড়ত ।এরকম ভাবে বইকে ভালবাসার কারণে বই তাকে ভালবাসতে শুরু করে।এভাবে বই এর সাথে তার সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে।
কিন্তু ১৯৭১সালে যখন দেশে যুদ্ব শুরু হয়ে যায় তখন বন্দ হয়ে যায় তার স্কুলে য্ওায়া । বড় ভাই সুনিল মজুমদার মুক্তিযুদ্বে যোগ দেন ।তার কাঁদে এসে পরে পরিবারের সকল দায়বার।তিনি তখন নবম শ্রেণীতে পড়েন।তার পর সে ১৯৭৩সালে উথুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাস করেন। এর পর ইন্টারমিডিয়েট পড়ার জন্য ভার্তি হন বর্তমান ভালুকা ডিগ্রি কলেজে।এর মাঝে থেমে থাকেনি তার বই পড়া ।তার এলাকার হিন্দু পন্ডিত ,পুজারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন বই এনে পড়তেন।কারণ,যুদ্¦ের পর খুব কষ্টে কাটিয়েছে ।বই কিনার মতো সামার্থ তার ছিল না।তাই সুশিল চন্দ্র মজুমদার বই সংগ্রহ করার জন্য এলাকার পুজারী রবিন্দ্র চক্রবতির সাথে কথা বলেন ।রবিন্দ্র চক্রবতির অনেক বই ছিল ,বলতে গেলে ছোট-খাট একটা লাইব্রেরী।রবিন্দ্র চক্রবতি সুশিলের বই পড়ার আগ্রহ দেখে সে বই পড়ার জন্য আরো উৎসাহিত করেন।এভাবে তার কাছ থেকে বই এনে পড়তেন সুশিল চন্দ্র মজুমদার।এছাড়্ওা তার মামাতো ভাই এর কাছ থেকে বই এনে পড়তেন।মামাতো ভাই চন্দন বিশ্বাস এর বন্দুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন ।সেখান থেকে তাদের মাধ্যমে বই এনে পড়তেন বই পাগল সুশিল।কলেজে ভতি হল্ওে এইস.এস.সি পরিক্ষা দিতে পারেন নাই ।পারিবারিক ,শারীরিক ,সামাজিক বিভিন্ন কারনে আর লেখাপড়া করা হয়নি ।কিন্তু সে থেমে যায় নি,গুরু রবিন্দ্র চক্রবতির কথায় সে জ্ঞান অর্জন করার জন্য নিয়মিত অবসর সময় বই পড়ে কাটায়।তিনি একহাজারেরো বেশি বই (উপন্যাস,কাব্য, মহাকাব্য,গীতিকাব্য,লোককাব্য,নাটক,গল্প,ছড়া,গোয়েন্দা কাহিনি,জীবনি,ইতিহাস,ভ্রমন কাহিনি,চিঠি ইত্যাদি)পড়েছেন।মাইকেল মধুসুদন দত্তের জীবনি,তার লেখা মেঘনাদবদ কাব্য ,নাটক্ও পড়েছেন।দেশি বিদেশী অনেক লেখকের বই পড়েছেন সুশিল চন্দ্র মজুমদার।বিদেশী লেখকদের মাঝে যাদের লেখা বই বেশি পড়েছেন তারা হলো:উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর রচনা সমগ্র,স্টেলিন চার্চ ,ইরানের কবি ্ ইকবাল,শেখসাদির লেখা বই,তুরস্কের লেখক কামাল আতাতু আরো অনেকের বই পড়েছেন।উদয়ন,সুভিয়েত নারী এবং চিন ,রাশিয়ার লেখকদের অনুবাদ পড়েছেন। বিশ্বযুেদ্বর লেখা বই,হিটলার এর জিবন কাহিনি,নেপোলিয়ান সহ আরো অনেক বিদেশী বই পড়েছেন এই বই পাগল সুশিল চন্দ্র মজুমদার ।বাঙালি লেখকদের মাঝে যাদেও বই সবচেয়ে বেশি পড়েছেন তাদের কয়েক জনের নাম তিনি উল্লেখ করেন ;শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় ,দশু বনহুর লেখা ৬৫টি বই পড়েছেন,দশু বনহুর যে বইটি পড়েছিলেন তা হলো “ দূর্গা উৎসব ,বনরাজ দশু মোহন” এছাড়্ওা বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় এর লেখা প্রথম পড়া বই “কমলাকান্তের দপ Íর ,চন্দ্রশেখর” । রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজরুল ইসলাম ,জীবনানন্দ দাস,সুকান্ত ভট্টাচার্য,সুকুমার রায়,কায়কোবাদ,সতেন্দ্রনাথ দত্ত,ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ইত্যাদি লেখকদের লেখা বই পড়েছেন বই পাগল সুশিল।বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা,সদর ,কুতুয়ালী থানা, খাগডহর ইউনিয়ন,জেলখানা চড়,বিন পাড়া তার ছোট ভাই সুশান্ত এর বাসায় থাকেন।সাত বছর যাবৎ তিনি এখানে থাকেন ।বিনপাড়া বসবাসরত একজন ছাত্রের সাথে তার পরিচয় হয় ।এবং তার কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে পড়তেন।কিন্তু লেখাপড়ার জন্য শান্ত চট্্রগ্রাম চলে গেছে।এখন তাকে বই দিয়ে হেল্প করার মতো কেউ নেই।এখন ,সার া দিনে পপকন বিক্্ির করে যে টাকা প ায় তার কিছু দিয়ে পত্রিকা এবং বই কিনে পড়েন।একাকিত ¦ সময় পার করার জন্য সে বই পরে। তার জীবনের আনন্দ বই পড়ার মাঝে খুজে পাই।৬৫বছর বয়সে বই পাগল সুশিল চন্দ্র মজুমদার (পপকন বিক্রেতা ) বইয়ের নেশায় ঘুরে।এখন তার লক্ষ্য হলো সে সরকারি গ্রন্থাগারের সদস্য হবে এবং বই নিয়ে পড়বে ।

No comments বই পাগল সুশিলের পপকন বিক্রিই পেশা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাটাগরি
দিনপঞ্জিকা
January 2020
M T W T F S S
« Sep    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031