ময়মনসিংহ - ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ || ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

শিরোনাম

অবশেষে মারা গেল শেরপুরের শ্রীবরদীতে আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় নির্যাতিত শিশু সাদিয়া!

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসার গৃহকর্মী অকথ্য নির্যাতনের শিকার শিশু সাদিয়া উরফে ফেলি (১০) এর আর বেঁচে ফেরা হলো না। ১ মাস মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেল শিশু সাদিয়া। শিশুটির মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী সদর থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহেল আল আমিন।
জানা যায়, গত ১১ মাস পূর্বে ফেলিকে তার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নেওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত ওই অবুঝ শিশুটিকে অকথ্য নির্যাতন করে আসছিলেন শাকিলের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ঝুমুর। এক পর্যায়ে টানা ১৫ দিন ধরে মেয়েটির উপর অকথ্য নির্যাতন চলে আসছিল বলে অভিযোগ সুত্রে জানা যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশুটি বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে তার বাবা মার কাছে ফেরত পাঠায়। শিশুটির বাবা মা মেয়ের এ অবস্থা দেখে বিগত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানালে শ্রীবরদী থানা পুলিশ রাত ১২টায় তাকে উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং গৃহকর্ত্রী রাবেয়া আক্তার ঝুমুরকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। এবিষয়ে ঝুমুরকে অভিযুক্ত করে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। ভিকটিমকে রাতেই শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খায়রুল কবির সুমন সে সময়েই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। মেয়েটির শরীরে অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে বলে মনে হয়। আপাদ মস্তক তার শরীরে সেই নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পেটে পানি এসে গেছে। ছোট্ট শিশু হলেও ভারী কাজ সহ সংসারের যাবতীয় কাজ তাকেই করতে হত বলে জানিয়েছিল সাদিয়া। একটু এদিক সেদিক হলে শুধু নির্যাতন নয় তাকে খাবার পর্যন্ত দেওয়া হতো না এবং পশুর মত নির্যাতন করলেও কেউ তাতে বাধা দিতো না।বাবা-মা কারো সাথে দেখা করতে দেওয়া হতো না, এমনকি বাড়ি যেতে চাইলেই বেদম প্রহার করা হতো বলে জানা যায়। শিশুটিকে রক্ষা করতে পুলিশ সার্বিক প্রচেষ্ঠা চালিয়েছিল। সাদিয়া উরফে ফেলি (১০) শ্রীবরদী পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া মহল্লার গরীব কৃষক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বিষয়টি নিয়ে ফলাও করে বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদটি প্রচার হয়। সংবাদটি জেলার সকল স্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং এই ঘটনার দায় গৃহকর্তা শাকিল এড়াতে পারেন না মর্মে একটি মানবাধিকার সংগঠন শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গৃহকর্তা শাকিলকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করে। এতো কিছুর পরেও মৃত্যুের সাথ যুদ্ধ করে অবশেষে হেরে গেলো গরিব ও অসহায় কৃষক সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া ওরফে ফেলি(১০)। অভাব অনটন আর একমুঠো ভাতের জন্য শিশুটিকে আজ এভাবে নিমর্ম ভাবে মরতে হল। এটাই সভ্যতার নিদর্শন? শিশুটির মৃত্যুর সংবাদে জেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ঘাতক ওই ধনি পরিবারের কঠিনতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর