ময়মনসিংহ - ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ || ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

শিরোনাম

আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন!

আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন

বিটিআরসির সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসের পর আর কোনো অবৈধ হ্যান্ডসেটে সিম চালু হবে না। শুধুমাত্র বৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশে বৈধভাবে উৎপাদিত সেট দিয়েই সিম চালু করা সম্ভব হবে। গত এক বছরে কেউ যদি অবৈধ হ্যান্ডসেট কিনে থাকেন তাহলে সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এক বছর আগের কেনা সেটের ব্যপারে কিছু বলা হয়নি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রারে (এনইআইআর) নিবন্ধিত সিম চালু হবে। বৈধ সেটগুলো বাজারে আসার আগেই এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে। কোনো গ্রাহক মোবাইল সেট কিনতে গেলে সেটটির আইএমইআই নম্বর ফ্রি এসএমএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠিয়ে জানতে পারবেন সেটি বৈধ না অবৈধ।

অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে প্রযুক্তিগত সমাধানের জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি কিনছে বিটিআরসি। গত বৃহস্পতিবার যন্ত্রপাতির অর্ডারও দেওয়া হয়েছে। কাজ পেয়েছে সিনেসিস আইটি লিমিটেড। আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের চুক্তি করতে হবে। চুক্তির ১২০ দিনের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাটি চালু করতে হবে। এতে তাদের কাজের সর্বশেষ সময় দাঁড়ায় এপ্রিল মাস। এর মধ্যেই তাদের প্রযুক্তিটি চালু করতে হবে।

বিটিআরসির উপপরিচালক জাকির হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। যন্ত্রপাতি এসে গেলে আর কোনো অবৈধ হ্যান্ডসেট বাজারে থাকবে না। কেউ কিনলেও চালু করতে পারবেন না।

জানা গেছে, বিটিআরসি ২০১২ সালে প্রথম অবৈধ মোবাইল সেট বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে নানা কারণে তা এতদিন বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছর দরপত্র আহবান ও একটি কোম্পানিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ পাচ্ছে। বিটিআরসি বলছে, নকল হ্যান্ডসেট, অবৈধভাবে আমদানি, চুরি ও রাজস্ব ক্ষতি রোধে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে দেশে বৈধভাবে আমদানি ও উৎপাদিত সেট তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু হওয়া ফোনের আইএমইআই মিলিয়ে দেখা হবে। অবৈধ, চুরি যাওয়া ও নকল সেট চালু করা যাবে না। এর ফলে মোবাইল সেট চুরির প্রবণতাও অনেক কমে যাবে।

মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিম্ফনির এমডি জাকারিয়া শহীদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই এই দাবি করে আসছিলাম। এমনকি আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এনইআইআরের প্রাথমিক কাজটাও করে দিয়েছি। এখন এটা চালু হলে তিন ধরনের লাভ হবে। প্রথমত, গ্রাহক নকল বা অবৈধ সেট কিনে প্রতারিত হবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকার বিক্রি হওয়া সেট থেকে শতভাগ রাজস্ব পাবে। এবং তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজটাও সহজ হয়ে যাবে। কোনো ব্যক্তিকে খুঁজতে গেলে বেশি কষ্ট করতে হবে না। একটি নম্বরেই সঠিক ব্যক্তিকে পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি মোবাইল সেট চুরি হওয়ার প্রবণতা কমবে।

কীভাবে বুঝবেন সেটটি বৈধ কি-না : মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হল মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD লিখে স্পেস দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে বৈধ না অবৈধ, তা জানা যাবে। মোবাইল ফোনের প্যাকেটের গায়ে আইএমইআই নম্বরটি থাকে। এর বাইরে *#০৬# ডায়াল করে আইএমইআই নম্বর জানা যায়। বিদেশ থেকে আনা সেটের কী হবে : বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআরআই চালু হলেও মানুষ বিদেশ থেকে আসার সময় সেট নিয়ে আসতে পারবেন। তবে সেটার নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ব্যবস্থা রাখবে বিটিআরসি। বিমানবন্দরে এ ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বিটিআরসিতেও কেনার বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে নিবন্ধন করে নেওয়া যাবে। বিটিআরসির প্রাথমিক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এক জন মানুষ বছরে সর্বোচ্চ দুটি হ্যান্ডসেট বিদেশ থেকে আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে তাকে ট্যাক্স দিতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর