ময়মনসিংহ - ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ || ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

শিরোনাম

প্রতিটা মানুষের উপর কোরআনের হক

কোরআন বিশ্ব মানবতার জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামত

কোরআন বিশ্ব মানবতার জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামত। পথহারা মানুষের পথনির্দেশক। সরল সঠিক পথের দিকে আহ্বানকারী কিতাব। এ কোরআন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। এতে শেখানো হয়েছে ইসলামের অনেক বিধিবিধান।

এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, ‘বড়ই মেহেরবান তিনি (আল্লাহ) যিনি, কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।’ সুরা আর রহমান। কোরআন পৃথিবীর অন্যতম একটি কিতাব, যার মাধ্যমে আরবের সেই বর্বর জাতি সৌভাগ্যবান জাতিতে পরিণত হয়েছিল। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরআন দিয়েই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ তৈরি করেছিলেন। এ কোরআনের বেশকিছু হক বান্দার ওপর রয়েছে, যা আদায় করা আবশ্যক। এমনকি অনেক হক এমন আছে, কেউ যদি তা আদায় না করে কিয়ামতের দিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করবেন।

কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর রসুল বলবেন, (কিয়ামতে) হে আমার রব! নিশ্চয় আমার জাতি এ কোরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।; সুরা ফুরকান। মানুষের ওপর কোরআনের হকগুলো হলো- এক. কোরআনের ওপর ইমান আনা : কোরআনের প্রতি ইমান আনার অর্থ হলো, কোরআন আল্লাহর কালাম, এটা আসমানি শেষ কিতাব এবং এ কিতাবের মধ্য দিয়ে সব আসমানি কিতাব রহিত হয়ে গেছে। কোরআন বিশ্বমানবের জন্য হেদায়াত ও আল্লাহর পক্ষ থেকে নুর বা আলো।

কোরআনে এসেছে,  ‘অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের এবং আমি যে নুর অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ইমান আনো। আর তোমরা যে আমল করছ আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।’ সুরা তাগাবুন।

দুই. কোরআনকে সহিভাবে পড়তে জানা : প্রত্যেক মুসলিমকে কোরআন পড়া জানতে হবে। কারণ এটা শেখাকে ফরজ করা হয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ সুরা আলাক।

তিন. কোরআন তিলাওয়াত ও শোনা : কোরআন তিলাওয়াত করা কোরআনের অন্যতম একটি হক। এ সম্পর্কে কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এভাবে, ‘তোমার প্রতি যে কিতাব ওহি (অবতীর্ণ) করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর।’ সুরা আনকাবুত।

চার. অন্যকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া : রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম কাজ ছিল মানুষকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া। এ সম্পর্কে হজরত ওসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুল বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ বুখারি।

পাঁচ. কোরআনকে হেফজ বা মুখস্থ করা : কোরআন হেফাজত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আল্লাহ নিজেই কোরআন হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ হেফাজতের একটি প্রকার হচ্ছে, বান্দাদের কোরআন হেফজ করানো। যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কোরআনকে সংরক্ষণ করছেন এবং করবেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আমি কোরআন নাজিল করেছি, আর আমিই তার হেফাজতকারী।’ সুরা হিজর।

ছয়. কোরআনকে বোঝা ও উপলব্ধি : কোরআনের অর্থ বোঝা ও অনুধাবন করা কোরআনের অন্যতম হক। কোরআনের অর্থ না বুঝতে পারলে কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য ও দাবি কেউ পালন করতে পারবে না। না বুঝে পড়লে কোরআনের আসল মজা পাওয়া যায় না। তাই কোরআন বোঝার জন্য শব্দের অর্থ, আয়াতের ব্যাখ্যা, অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বা প্রেক্ষাপট জানতে হবে। তখনকার সময় যেহেতু আরবি ভাষা প্রসিদ্ধ ছিল তাই কোরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। বর্ণিত আছে, ‘নিশ্চয় আমি একে আরবি কোরআনরূপে নাজিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।’ সুরা ইউসুফ। লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।

সূত্র

এই বিভাগের আরও খবর