ময়মনসিংহ - ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

জেলার অপরিকল্পিত ফিসারীজ দমনে জেলা প্রশাসনের ১৩৩ ধারা প্রয়োগ।

জেলার অপরিকল্পিত ফিসারিজ দমনে জেলা প্রশাসনের ১৩৩ ধারা প্রয়োগ।

শফিয়েল আলমঃ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে অপরিকল্পিত ভাবে ফিসারীজ গড়ে উঠায় সৃষ্টি হচ্ছে জলব্ধতা । পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা থাকায় শত শত ফসলি জমি বিনষ্টর হওয়ার পথে। এ অবস্থ্যায় জেলা প্রশাসন ফৌজদারি র কার্যবিধি ১৩৩ ধারা প্রযোগ করে জলবদ্ধতা নিরসনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসন সকলের সহযোগিতা চেয়েছে। ইতমধ্যে ফুলবাড়িয়ায় কালভার্ট বন্ধ করায় এক মৎস্য ব্যাবসায়ী কে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার সদর ইউনিয়ন ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা এবং ত্রিশাল সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অপরিক্লত ভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে মাছ চাষের জন্য হাজার হাজার ফিসারিজ । এই মৎস্য ব্যবসায়ীর্ ানিজেদের মাছ চাষের জন্য কখনো খাল বিল এমনকি কালর্ভাট বন্ধ করে পানি ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। এর ফলে বসবাসরত পরিবার গুলোর ঘরবাড়িতে পানিতে ভেসে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে আবাদ করা হাজার হাজার একর জমির ফসল। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করায় অনেকে বাধ্য হয়ে ফসলি জমিতে মাছ চাষীদের কাছে বর্গা অথবা নিজেরাই মাছ করছে। সদর ইউনিয়নের চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামে অপরিকল্পিত ভাবে ফিসারিজ গড়ে উঠায় আজ বাউসি বিল গজারিয়া ও বগাউড়া বিল ভরাটের পথে। যার ফলে ইউনিয়নের বাউবিটা হরিপুর আলালপুর ,বাজিতপুর গ্রামের মানুষের ফসলি জমি সহ ঘরবাড়ি বিনষ্ট হচ্ছে।সিরতা ইউনিয়নে প্রভাবশালীরা খাল বিল বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। মুক্তাগাছা ৯ নং ইউনিয়নের কাশিমপুর ত্রিশালের আমিরবাড়ির ইউনিয়নের একই অবস্থা বলে জানা গেছে
এদিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশে ময়মনসিংহ কর্তৃক ১০ আগস্ট, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ঘরসহ পুকুর অপসারণ করা হয় এবং গণ উপদ্রব বন্ধ করার নির্দেশ প্রদানের পরও উহা অব্যাহত রাখার শাস্তিস্বরূপ দন্ডবিধি,১৮৬০ এর ২৯১ ধারা মোতাবেক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০,০০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যারা অবৈধভাবে মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সবসময় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন | জলাবদ্ধতা তৈরী করে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে যারা লাভবান হতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৩৩ ধারার কার্যকর প্রয়োগ হয়নি কখনো।জেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে প্রথম বারের মত ময়মনসিংহ জেলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৩৩ ধারার প্রয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দূর করার কাজটিতে হাতে নেয়া হয়েছে । ফুলবাড়িয়া ও নান্দাইলসহ অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। রাতারাতি হয়তো সব সমস্যা সমাধান হবে না, কিন্তু একাজে আমরা পাশে চাই সকলকে। লোভ যেন আমাদের আত্নাগুলোকে বিষাক্ত না করে আর অশুভ প্রভাবশালী চক্র যেন মাথা তুলে দাড়াতে না পারে- সেজন্য জেলা প্রশাসন সকলের নৈতিক সমর্থন ও সহায়তা চেয়েছেন । জেলা প্রশাসকের কাছে সংশ্লিষ্ট স্পটে থেকে অভিযোগ করার আহবান জানানো হয়েছে | প্রতি বুধবারের অনলাইন গণশুনানিতে।
ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইদুল ইসলাম জানান এরকম অবৈধ কার্যক্রম এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান স্যারের নির্দেশে ভ্রামমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর