ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

ত্রিশাল উপজেলার কৃষকদের কাছে আব্দুর রহমান এখন আইডল

কৃষক আব্দুর রহমান

২০ বছর ধরে কচুরলতির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আব্দুর রহমান। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি লতির চাহিদা বাড়ায় বর্তমানে পাইকারি লতি বিক্রি করেন তিনি। ২০ বছর আগের সময়টা ভালো ছিল না তার। কোনোরকম দু’মুঠো খেয়ে-পরে পরিবার নিয়ে সংসার চলতো। তখন নিজে অল্প জমিতে লতির চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন।
কয়েক বছর আগেও লতি বিক্রি করে সংসার চালানোর পর অবশিষ্ট কোনো টাকা জমিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। কিন্তু মনের আশাকে জাগ্রত রেখেছেন সবসময়। লতি বিক্রির টাকা দিয়ে একটু একটু করে লাভের মুখ দেখতে থাকেন তিনি। তখন থেকে তার মনোভাব বড়তে থাকে। স্বপ্ন দেখেন লতি বিক্রি করেই সচ্ছল হবেন আব্দুর রহমান।
নিজের অল্প জমিতে লতি চাষ করে বিক্রি করতেন। দিন দিন মানুষের লতির চাহিদা বাড়ায় আব্দুর রহমানের লতি ব্যবসা জমে ওঠে। এখন নিজের জমিতে লতি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমির লতি পাইকারি দরে কেনেন তিনি। তারপর দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত লতির চালান পাঠান। স্থানীয়রা তাকে দেখে লতি চাষে উদ্বুদ্ধ হন।
লতি চাষি আব্দুর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বীররামপুর গ্রামে। তিনি বালিপাড়া বাজারে লতি বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বী। কয়েক বছর আগে লতি চাষ করে যার কোনোরকম সংসার চলতো এখন তার কচুরলতির বান্ডেল করে ১৫ জন শ্রমিক। বর্তমানে তিনি পাইকারি লতি বিক্রি করেন। তিনি লতির ব্যবসা করে এলাকায় জমিও কিনেছেন। এলাকার কৃষকদের কাছে আব্দুর রহমান এখন ‘আইডল’।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, লতি চাষি আব্দুর রহমান মন থেকে কৃষিকাজকে ভালোবাসে। আমাদের চোখের সামনে কষ্টে দিন কেটেছে তার। রশিদ এখন স্বাবলম্বী। তার সুখের দিন ফিরে আসায় আমাদেরও ভালো লাগছে।

এই বিভাগের আরও খবর