ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

ভিক্ষুক জমিলা এখন একটি দোকানের মালিক

ভিক্ষুক জমিলা এখন একটি দোকানের মালিক

ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চরশিয়ারি গ্রামের জমিলা খাতুন। বয়স ৫২ বছর। স্বামীকে হারিয়েছেন ২০ বছর আগে। তখন থেকেই তার দুর্বিষহ দিন শুরু হয়। দু’মুঠো ভাত খেতে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন তিনি। বুধবার সেই জমিলা খাতুন হয়েছেন দোকানের মালিক। উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে দোকান করে দেয়া হয়েছে।
চরশিয়ারি গ্রামের কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন যাবত জমিলা খাতুন ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করছেন। তাকে দেখে আমাদের খুব মায়া লাগে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের ভেতরে আরো বহু বয়স্ক ভিক্ষুক রয়েছেন। জমিলাসহ সকল বয়স্ক ভিক্ষুকদের সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
জমিলা খাতুন বলেন, ভিক্ষা করতে আমগর কাছে লজ্জা লাগে। তবুও অভাবের লাইগা ভিক্ষা কইরা বেড়াই। মাঝে মধ্যে রাস্তায় ভালাভাবে খেয়াল না কইরা সাহায্যের জন্য হাত পাইতা দেই। পরে দেহি তিনি আমগর আত্মীয় লাগে, তহন মনে খুব কষ্ট লাগে। সরকারিভাবে অহন আমারে দোকান কইরা দিছে। আমি আর ভিক্ষা করুম না।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, এই বয়সে ভিক্ষা করা দেখলে সবারই মায়া লাগে। তাই আমার ইউনিয়নের কোনো ভিক্ষুক আমার কাছে এলে সহায়তা করেছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি কিছু বয়স্ক মানুষ ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সরকারিভাবে তাদের একটু উপকার করতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে। তাদের এখন আর ভিক্ষা করতে হবে না।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এলজিএসপি-৩ প্রকল্প থেকে অসহায় ভিক্ষুক জমিলা খাতুনকে একটি দোকান ঘর দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি দোকানে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন বিক্রয় সামগ্রীও দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যেমে আরো একজন ভিক্ষুককে আরেকটি দোকান দেয়া হয়। ভিক্ষুকরা যেন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন সেজন্য আরও ৫ জন ভিক্ষুকের মাঝে ৫টি মোটরচালিত রিকশা বিতরণ করা হয়। অসহায় ভিক্ষুকদের মাঝে এসব বিতরণ কর্যক্রম উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক একেএম গালিভ খান।

এই বিভাগের আরও খবর