ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

এক নজরে ময়মনসিংহ জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে ময়মনসিংহ জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে ময়মনসিংহ জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

মোট জনসংখ্যা ৪৪,৮৯,৭২৬ জন (২০০১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী), পুরুষ ২২,৯৭,৩০২ জন, মহিলা ২১,৯২,৪২৪ জন, মোট খানার সংখ্যা ৯,৬৫,১৫৫টি। মুসলিম ৯৪.৭৩%, হিন্দু ৪.২৫%, খ্রিস্টান ০.৭৫%, বৌদ্ধ ০.০৬%, অন্যান্য ০.২১%। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২৭%; বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনুযায়ী ২০১০ সালের অনুমিত জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ।
নদ-নদীর সংখ্যা ২২টি, আয়তন ১১৪৪৫.২০ হেক্টর। নদীর নাম- ব্রহ্মপুত্র, সুতিয়া, ক্ষিরু, সাচালিয়া, পাগারিয়া, নাগেশ্বর, কাচাঁমাটিয়া, আয়মন, বানার, নরসুন্দা, বোরাঘাট, দর্শনা, রামখালী, বৈলারি, নিতাই, কংশ, ঘুঘুটিয়া, সাতারখালী, আকালিয়া, জলবুরুঙ্গা, চৌকা মরানদী, রাংসা নদী ইত্যাদি। বিল ও প্রধান প্লাবনভূমির সংখ্যা ১১৪০টি, আয়তন ৩০৭৬২.০০ হেক্টর। বনভূমি ৩৮৮৬০.৭৩ একর। বালু মহল ১৫টি, আয়তন ৮৭৪.৫০ একর। সাদামাটি মহল ১টি, আয়তন ২৪.৩৩ একর ইত্যাদি।
জেলার শিক্ষার হার ৩৯.১০% (পুরুষ ৪১.০৯%, মহিলা ৩৬.০৩%)। প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ২৬৮৯টি (তন্মধ্যে সরকারী ১২৪৯টি, বেসরকারী রেজিষ্টার্ড ৬২১টি, আন রেজিষ্টার্ড ২৭টি, উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ৫৬টি, কিন্ডার গার্ডেন ১২৬টি, পরীক্ষণ ১টি, স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ২৩৪টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ২৪৩টি, কমিউনিটি ১১৪টি, এনজিও ১৮টি)। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৫টি, ৯ম শ্রেণীর অনুমতি প্রাপ্ত বিদ্যালয় ৭২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪০৪টি, স্কুল এন্ড কলেজ ১৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩১টি, ডিগ্রী কলেজ ২৭টি (সরকারী ৩টি, বেসরকারী ২৪টি), বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ২টি (সরকারী), বিশ্ববিদ্যালয় ২টি (সরকারী), মেডিক্যাল কলেজ ২টি (সরকারী ১টি, বেসরকারী ১টি), ক্যাডেট কলেজ ১টি, চারুকলা ইনষ্টিটিউট ১টি, হোমিওপ্যাথিক কলেজ ১টি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ১টি, কারিগরী মহাবিদ্যালয় ১টি, ভোকেশনাল ইনষ্টিটিউট ২টি, শারীরিক শিক্ষা মহাবিদ্যালয় ১টি, কামিল মাদ্রাসা ৪টি, ফাযিল মাদ্রাসা ৪৭টি, আলিম মাদ্রাসা ৪২টি, দাখিল মাদ্রাসা ২৯৫টি, আর্ট স্কুল ১টি।
ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে রেলপথ ও সড়ক পথই প্রধান। জেলার অভ্যন্তরে যাতায়তের জন্য নৌপথেও সামান্য কিছু যোগাযোগ ব্যবস্থার আয়োজন আছে, তবে সে সব যোগাযোগ শুধুমাত্র বর্ষাকালেই কার্যকর থাকে, বছরের অন্য সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণই সড়ক ও রেলপথ নির্ভর হয়ে পড়ে। নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের কারণে বর্তমানে নৌপথের ব্যবহার হতাশাব্যঞ্জকভাবে কমে গেছে। তবে বর্ষায় এখনো ধান-পাট নৌপথে পরিবহন করা হয়ে থাকে। ময়মনসিংহের কাচারী খেয়া ঘাট, থানার ঘাট থেকে নৌপথে বাইগনবাড়ি, বিদ্যাগঞ্জ, বালির বাজার, বালিপাড়ায় প্রভৃতি স্থানে যাতায়ত করা যায়।
দীর্ঘকালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম শাসনের ঐতিহ্য ময়মনসিংহকে সাংস্কৃতিকভাবে ধনাঢ্য করে গেছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ঐতিহ্যে লালিত হয়ে আসছে এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক বন্ধন। যেসব ব্যক্তিত্ব ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তাঁরা হলেন এখানকার জমিদারবর্গ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমেদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক আবুল কালাম শামছুদ্দিন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোক সংস্কৃতিও রূপান্তরিত হয়েছে ঐতিহ্যে। ময়মনসিংহ গীতিকা বিশ্ব দরবারে অলংকৃত করেছে ময়মনসিংহের নিজস্ব পরিচয়। স্বপ্নের নকশী কাঁথায় বোনা হয়েছে এখানকার বাস্তবচিত্রের কাহিনী। মহুয়া মলুয়া থেকে জয়নুল আবেদীনের চিত্র হয়ে উঠেছে বিশ্বময় ময়মনসিংহের গৌরব গাঁথা। ঈশাখাঁর যুদ্ধ বা সখিনা-সোনাভানের কাহিনী বাতাসে ছড়ায় বীরত্বের হৃদয় ছোঁয়া বিরলপ্রভা।

এই বিভাগের আরও খবর