ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

শেরপুরের ঝিনাইগাতী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিয়োগ বাণিজ্য করে জিরো থেকে হিরো!

মুহাম্মদ আবু হেলাল(শেরপুর প্রতিনিধি): শেরপুরের ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে নানা নিয়োগে প্রায় ২ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। আর সেইসব বাণিজ্যের টাকায় গড়েছেন এলাকাসহ জেলা শহরে সম্পদের পাহাড়। অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান অল্প সময়ের মধ্যে জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন!তার সীমাহীন দুর্নীতির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ওইসব গুরুতর অভিযোগ। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৩ ও ডিগ্রি পর্যায়ে ৯ জনসহ ৩২ জন শিক্ষক (প্রভাষক) এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন মোট ১৪ জন। আর ওইসব শিক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দু’দফায় অর্থাৎ নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে এবং এমপিওভূক্তির পর্যায়ের প্রায় সকলের কাছ থেকেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা। একইভাবে কর্মচারীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা। সব মিলে শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার মতো নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বশীল মহলসহ নানাভাবে এদিক-সেদিক বিলিয়েও কেবল অধ্যক্ষই এককভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুবাদে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিজ এলাকাসহ জেলা শহরে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, আর্থিক দূরাবস্থায় অনেকটা শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করলেও অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিজ এলাকা ও জেলা শহরে একাধিক বাসা-বাড়িসহ রাতারাতি অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক তথা কোটিপতি বনে গেছেন। ওই বিষয়ে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, তিনি নিজ গ্রাম ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের দক্ষিণ গান্ধিগাঁও এলাকায় গড়ে তুলেছেন পাকা দালানবাড়িসহ অবসর বিনোদনের জন্য ব্যাঙের ছাতার আদলে স্থাপনা। সেইসাথে গড়েছেন সবুজে ঘেরা প্রকান্ড বাগান। স্থানীয় সূত্রমতে, পৈত্রিক সম্পত্তির পরও এলাকায় একাধিক নামে ক্রয় করেছেন জায়গা-জমি। আর উপজেলা সদরে শহীদ মিনার সংলগ্ন রামেরকুড়া মৌজায় গড়ে তুলেছেন প্রাসাদোপম বহুতল ভবন। এছাড়া জেলা শহরের গৌরীপুর এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণে মোটা অংকের টাকায় ক্রয় করেছেন বেশ পরিমাণ জায়গা। এরপরও অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী ও তার নিজের নামে আরও একাধিক এলাকায় জায়গা-জমিসহ ব্যাংক-বীমায় জমা রয়েছে বিপুল অর্থ। সম্প্রতি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভূক্ত হলে ওই এমপিও নিয়ে মহাকেলেঙ্কারির সূত্রে ফাঁস হয়ে যায় অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সীমাহীন দুর্নীতি। ওই দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন স্ব-স্ব পদে এককভাবে নিয়মিত কর্মরত থেকেও এমপিও থেকে বাদ পড়েন ২ নিয়মিত শিক্ষক। অন্যদিকে তার ওইসব দুর্নীতি ফাঁস হয়ে পড়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিয়মিত শিক্ষকদের তরফ থেকে ময়মনসিংহ বিভাগের শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ও শেরপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয় লিখিত অভিযোগ। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশে গত ২ জুলাই ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদকে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতাসহ গভর্নিং বডির সাবেক কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখক নাগরিক নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা ঝিনাইগাতী সদরে মানববন্ধন করে অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তিসহ এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির দাবি জানান। আর ওইসব প্রেক্ষাপটে কলেজ গভর্নিং বডির তরফ থেকে কর্মকর্তা-শিক্ষকদের নিয়েও করা হয় বিশেষ সভা। এছাড়া অধ্যক্ষের রোষানলে পড়ে নির্যাতনের পাশাপাশি বসতভিটা হারানো এক অসহায় পরিবারের তরফ থেকে আদালতে দেওয়া হয় নালিশী মামলা। ওইসব বিষয়গুলো ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পুনঃপুন প্রকাশিত হলে শুরু হয় তোলপাড়। কিন্তু দীর্ঘ ২ মাস পরও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বরং উল্টো অভিযোগ উঠেছে, অধ্যক্ষ এখন সবকিছু ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়-ঝাঁপ করছেন।এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর