ময়মনসিংহ - ২০শে অক্টোবর, ২০২০ || ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭

শিরোনাম

শেরপুরের শ্রীবরদীতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার

স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি: স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার দীঘর্দিন যাবত সংস্কার না করা ও পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত শেরপুরের শ্রীবরদীর পাহাড়ি এলাকা রাবার বাগান হতে বাবেলাকোনা ক্ষত বিক্ষত কাঁচা সড়কটি স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারে নেমেছেন স্থানীয় যুবকরা।

জেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমার নেতৃত্বে মঙ্গলবার থেকে চলছে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কার্যক্রম। আজ বুধবার প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চলাচলের উপযোগি করেছেন স্বেচ্ছাশ্রমে আসা যুবকরা। এই স্বেচ্ছাশ্রমে সহায়তা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার।স্বেচ্ছাশ্রমে আসা যুবকরা জানান, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর সংস্কারের অভাবে দুই কিলোমিটার সড়ক ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়ে।

চরম দুর্ভোগের শিকার

এতে রাবার বাগান হতে বাবেলাকোনা সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার বাবেলাকোনা, হারিয়াকোনা, চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা ও কুমারগাতিসহ ১০ গ্রামের মানুষ।এসব গ্রামে রয়েছে কয়েকটি এনজিও অফিস, মিশন, গীর্জা, মসজিদ, বিজিবি ক্যাম্প, ফরেষ্ট অফিস ও রাবার বাগানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারে একাধিকবার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

তবুও সংস্কার না হওয়ায় নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে নেমেছেন এলাকার শতাধিক যুবক। স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমা।তিনি বলেন, সড়কটি কোথাও ধসে গেছে। কোথায় হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ জন্য আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ নেই। এ কাজে একাত্ততা প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আ্ক্তার। তিনি আড়াইশ ব্যাগ বালির বস্তা ও একটি প্লাষ্টিক পাইপ দিয়েছেন। এমনকি খোঁজ খবরও নিচ্ছেন।স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুজল মিয়া বলেন, বর্ষার শুরু থেকেই সামান্য বৃষ্টিতে বন্ধ হয় লোকজনের চলাচল। কেউ অসুস্থ্য হলে কাঁধে করে নিতে হয় দুই কিলোমিটার। কর্ণঝোড়া বিট কর্মকর্তা মীর্জা গোলাম মোস্তুফা বলেন, সাইকেল, ভ্যানগাড়ী ও ট্রলি চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

সাবেক ইউপি সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ভুপেন্দ্র মান্দা বলেন, দুর্ভোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে তারা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে খাবার আয়োজন করে। সড়ক সংস্কারের কাজ করে দুপুরে খেয়ে যায়। এতে তাদের উৎসাহ আরো বাড়ছে।এপি ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জনপল স্কু বলেন, দুই একদিনের মধ্যেই হয়তো সড়ক মেরামতের কাজ শেষ হবে। এতে কোনো মতে যাতায়াত করতে পারবে পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানগাড়ী ও অটো বাইক। তবে সড়কটি পাকা করণ করা হলে পরিবর্তন ঘটবে পাহাড়ি এলাকা। বদলে যাবে দৃশ্যপট। অপরুপে সৌন্দর্য্য মন্ডিত হবে পাহাড়ি জনপদ। এমনটাই মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ সচেতন মানুষরা।

এই বিভাগের আরও খবর