ময়মনসিংহ - ২০শে অক্টোবর, ২০২০ || ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭

শিরোনাম

শেরপুরে ঔরসজাত সন্তানকে বিক্রি : মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা : শিশু উদ্ধার : বাবাকে আটক

শেরপুরে ঔরসজাত সন্তানকে বিক্রি করায় বাবা আটক

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি: জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামের পাষন্ড বাবা সুলতান (৩০) কর্তৃক তার ঔরসজাত সন্তানকে ৯১ হাজার টাকায় প্রতিবেশী শফিকের কাছে বিক্রি করার ঘটনায় স্ত্রী সুমা আক্তার (২০) ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১টার দিকে ইউরিয়া সার খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক ওই শিশুকে ক্রেতা শফিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মা সুমা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের জনৈক নাজিম উদ্দিনের ছেলে সুলতান দুই স্ত্রী থাকার পর বিগত দুই বছর পূর্বে গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকার আঃ আজিজ এর মেয়ে সুমা আক্তারকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এদিকে তাদের দাম্পত্য ও সংসার জীবনে সুমা আক্তার গভবর্তী হয়। পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এদিকে সিজারের জন্য স্বামী সুলতান ২২ হাজার টাকা খরচ করেন। পরে সিজারের ২২ হাজার টাকা পাষন্ড স্বামী সুলতান স্ত্রী সুমা আক্তারের কাছে দাবী করেন এবং টাকা না দিলে তার শিশু সন্তানকে বিক্রি করে টাকা আদায় করবে। যেমন কথা তেমন কাজ। পরে একই এলাকার প্রতিবেশী কাপতুল মন্ডলের ছেলে শফিকের কাছে ৬ মাসের ঔরসজাত শিশু সন্তানকে ৯১ হাজার টাকা বিক্রি করে দেন বলে স্ত্রী সুমা আক্তার অভিযোগ করেন। এদিকে বুধবার সকালে শিশুটির মা সুমা আক্তার তার শিশুর খোঁজে প্রতিবেশী শফিকের বাসায় যায়। এসময় ক্রেতা শফিক শিশুটি তার বাসায় নেই বলে তাড়িয়ে দেয়। পরে নিজ বাসায় ফিরে ইউরিয়া সার খেয়ে সুমা আক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। অপরদিকে অসুস্থ সুমা আক্তারকে পুলিশ উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং শিশু বিক্রির ঘটনায় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান, সুজাউদৌল্লাহ, সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হায়দার আলী খান, শফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ শিশুটির ক্রেতা শফিকের বাড়ী থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসাধীন মা সুমা আক্তারের কোলে ফিরিয়ে দেয়। সেই থাকে ঔরসজাত সন্তানকে বিক্রয়কারী পাষন্ড বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর