ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

বৃদ্ধার পাশে দাড়ালেন হালুয়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা

বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করা সালেমুন নেছার (৭০)

বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করা সালেমুন নেছার (৭০) পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম। সালেমুন নেছাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন ইউএনও। একই সঙ্গে তার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

‘জমি বিক্রি করে ছেলে ঢাকায়, বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষা করেন মা’ শিরোনামে জাগো নিউজে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সালেমুন নেছাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তার পাশে দাঁড়ান ইউএনও রেজাউল করিম।
বুধবার (১৫ জুলাই) সালেমুন নেছাকে আর্থিক সহায়তা দেন ইউএনও রেজাউল করিম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি এই বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়।
বৃদ্ধা সালেমুন নেছাকে উপজেলা পরিষদে ডেকে খাদ্যসামগ্রী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেয়া হয়

এর আগে সকালে বৃদ্ধা সালেমুন নেছাকে উপজেলা পরিষদে ডেকে আনা হয়। এ সময় তার হাতে খাদ্যসামগ্রী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি তাকে একটি সরকারি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় উপজেলা প্রশাসন। সহযোগিতা পেয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা সালেমুন নেছা। সেই সঙ্গে তিনি অঙ্গীকার করেন আর ভিক্ষা করবেন না।
দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃদ্ধা সালেমুন নেছার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বৃদ্ধাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে বৃদ্ধা সালেমুন নেছা সম্পর্কে খবর নিই। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা দিয়েছি। তাকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, বৃদ্ধা সালেমুন নেছাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। মঙ্গলবার সংবাদ দেখে বুধবার সালেমুন নেছাকে আমরা উপজেলা পরিষদে ডেকে এনেছি। সেই সঙ্গে তাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি চাল-ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়েছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
ইউএনও রেজাউল করিম বলেন, যেহেতু সালেমুন নেছার জমিজমা নেই তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর তৈরি করে দিতে দেরি হবে। তবে তাকে সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার হালুয়াঘাট বাজারে ভিক্ষা করতে আসেন বৃদ্ধা সালেমুন নেছা। তখন বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বাজারের সব মানুষ দৌড়ে বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নেন। এ সময় বৃদ্ধা সালেমুন নেছা রাস্তার পাশে বসে বৃষ্টিতে ভিজছিলেন। আশপাশের লোকজন এমন দৃশ্য দেখে চোখের পানি ফেলেছেন। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট কাদা-পানিতে একাকার হয়েছিল। ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় বসেছিলেন ওই বৃদ্ধা। এ অবস্থায় মুখটা কাপড় দিয়ে ডেকে ভিক্ষার থালার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সালেমুন নেছা। তখন পর্যন্ত কেউ তাকে চিনতে পারেননি। সবার মুখে ছিল একই কথা, আহারে! কে এই বৃদ্ধা।
এমন দৃশ্য দেখে চোখ ফেরাতে পারেননি সুমন আহমেদ। তিনি একই উপজেলার বাসিন্দা। হঠাৎ বৃদ্ধাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেন সুমন। তার ওই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

এই বিভাগের আরও খবর