ময়মনসিংহ - ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭

শিরোনাম

আইসক্রিম বিক্রি করে চালিয়ে যেতে চান হামিদ।

শফিয়েল আলমঃ
ময়মনসিংহ শহরের আইসক্রিম বিক্রেতা হামিদকে চেনেনা এমন লোক পাওয়া দূর্লোভ।জীবনের প্রায় তিনযুগ কাটিয়েছে আইসক্রিম বিক্রি করে। বাকি জীবন টাও আইসক্রিম বিক্রি করে চালিয়ে যেতে চান হামিদ।
আব্দুল হামিদ বয়স ৫৫বছর। প্রায় ৩৫ বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের সামনে কখনো আইসক্রিম কখনো ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। মহামারী করোনার প্রভাব হামিদের দেহে লেগে স্তিমিত হয়ে গেছ্।ে প্রায় ৩ মাস বন্ধ ছিল হামিদের ব্যবসা। সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে করোনা কে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নেমে পড়েছে সেই পুরোনো ব্যবসায় হামিদ। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় জয়নুল আবেদিন পার্কে তাঁর আইসক্রিম ব্যবসা । সারাদিনে আইসক্রিম বিক্রি করে যা আসে চাল ডাল কিনে বাড়ি যায় হামিদ। জীবন সংসারে অভাব অনটন নিয়ে দু ছেলে নিয়ে সুখে আছে। ৩৫ বছর আগে যারা দেখেছেন ঠিক তেমনি আছে হামিদ বয়সের বাড়ে ন্যুব্জ হয়ে যায়নি।
হামিদ বেশিরভাগ আইসক্রিম বিক্রি করে তাঁর জীবন নামের রেলগাড়িটা চালিয়ে এসেছে। লালন পালন করেছে বাবা মা ভাইবোনদের । অবশেষে ছোটবোন কে বিয়েও দিয়েছে হামিদ। হামিদের দু ছেলে বড় ছেলে ইমরান ওর্য়াকশপে কাজ করে ছোট ছেলে মাদ্রসায় লেখাপড়া করে। হামিদ কাচিঝুলী ইটাখলা রোডে নিজ বসতি থাকলেও একটু সুখের আশায় মুক্তাগাছায় পাড়ি জমিয়েছে। সেখানে ই থাকে এখন।হামিদ আজ থেকে ৩৫ বছর আগে দুশো টাকা দিয়ে আইসক্রিম ব্যবসা শুরু করেছিল। শুরু করে পুলিশ লাইন স্কুলের সামনে দীর্গদিন সেখানে ব্যবসা করে। তখন যা আয় হতো বাবা মা ও চার ভাইবোন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।ব্যবসা করতো ছোট ছোট বাচ্চারা মাম অথবা হামিদ ভাই বলে আইসক্রিম চাইতো এখন ছেলে মেয়েদের আন্তরিকতা খবুই কম বলে জানান হামিদ। আগে ছেলে মেয়েরা অনেক সম্মান করতো । বাকি দেওয়া হতো আবার সেই বাকি হামিদ ভূলে গেলেও মনে করিয়ে টাকা ফেরত দিতো। আর এখন বাকি দিলে দুই দিনেই পুঁিজ শেষ হয়ে যাবে বলে হামিদ জানান।এখনকার ছেলেদের আদব কায়দা খুব কম । অল্প তেই রেগে যায়।জীবনের শেষ সময় টুকু এই ব্যবসা করে চালিয়ে যেতে চান হামিদ। আর দ ুছেলেকে একটা কিছু ধরিয়ে দিতে পারলেই শান্তি।

এই বিভাগের আরও খবর